ভোটের মাঠে প্রভাবশালী বাবর, ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি ও মদন উপজেলা। বর্ষাকালে প্রকৃতি ধারণ করে মোহনীয় রূপ। গ্রামগুলোকে তখন মনে হয় ছোট ছোট দ্বীপ। আবার হেমন্তে পানি সরে গেলে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।
প্রকৃতির এই সুন্দর হেঁয়ালিপনার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন নেত্রকোনা-৪। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন ঘিরে রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
দলে বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও ভোটের মাঠে তিনি এখনও শক্তিশালী প্রার্থী। ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে প্রথমবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জায়গা করে নেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায়। ওই সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসব মামলায় তাঁকে খালাস দেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর পুনর্বাসন হয়নি।
কারাবন্দি থাকা অবস্থায় স্থানীয় বিএনপিতে বাবরের অনুসারীদের নেতৃত্ব দেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাঁকেই মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই আসনে স্বামী-স্ত্রীর মনোনয়ন দাখিল একটি কৌশল। যথাসময়ে তাহমিনা জামান শ্রাবণী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বাবরের পক্ষে অবস্থান নেবেন।
এই আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, সিপিবির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় সিপিবির সদস্য জলি তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুখলেছুর রহমান।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বাবরকে এই আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। একাধিক ভোটার বলছেন, বাবর এর আগে এমপি থাকাকালে এই এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। আমরা এলাকার উন্নয়নের জন্য আবার তাঁকে সংসদে পাঠাতে চাই। আমরা কোনো মার্কা বুঝি না। আমরা বুঝি মার্কা মানেই বাবর। এই আসনে বাবরের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
জামায়াতের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার বলেন, ‘আমরা ভোটের মাঠে ভালো সাড়া পাচ্ছি। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম আওয়াজ তুলছে। তরুণরা অতীতের মতো এসব আর চায় না। তরুণরা আমাদের সঙ্গে আছে। আশা করছি, এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’
অন্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নেত্রকোণা-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। তবে সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে এখন পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রেখেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
বার্তা বাজার/এস এইচ
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com
