Bd বাংলাদেশ

রাজধানীতে শিকড় গাড়ল জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকায় ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টিতে বিজয় অর্জন করছে জামায়াত জোট। প্রথমবারের মতো ঢাকার সংসদীয় আসন গুলোতে জয় পেয়ে রাজনৈতিকভাবে রাজধানীতে শিকড় গাড়ল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিগত সময়ে রাজধানীতেই দলটির শক্ত অবস্থান তেমন ছিলো না। এবার এ ৭ আসনের জয়ের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করল, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে দলটি।

ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।

ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নবী উল্লা পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়ছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।

ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট।

ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

এসব আসনে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এতদিন রাজধানীতে কোনো সংসদীয় আসন জিততে পারেনি দলটি, ফলে এই ফলাফলকে রাজনৈতিকভাবে “ব্রেকথ্রু” হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আগের তুলনায় বেশি ভোট পেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত হলো মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, আগে জোটনির্ভর দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তারা স্বতন্ত্র ভোটব্যাংকের ইঙ্গিত দিয়েছে।

অন্যদিকে, জাতীয় পর্যায়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, আর জামায়াত বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখবে।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৪৪ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দল শুরু থেকেই একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং সেই অবস্থানে এখনও অটল রয়েছে। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০ আসনে নেমে এসেছিল। ২০২৬ সালে সরকার গঠেন পথে দলটি, যে যাত্রায় সময় লেগেছে ১৮ বছর। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার– বিশ্বাস অর্জন করুন, হিসাব করার ক্ষমতা রাখুন এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত হোন।

২০০১ সালে ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট ২১০টি আসন লাভ করে। বিএনপি এককভাবে লাভ করেছিল ১৯৩টি আসন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন পেয়েছিল।

অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাত্র ১৭টি আসন লাভ করেছিল। তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ফলে দর্ঘী ২৫ বছরের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর আসন এখন জোটসহ ৭৭টি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় বড় সমাবেশ করে যা তাদের রাজনৈতিক বয়সে এর আগে কখনোই এমন বড় সমাবেশ করতে দেখা যায়নি। এমনকি রাজনৈতিকভাবে কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছিল দলটি। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কর্মী এনে রাজধানীকেন্দ্রিক শক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয় তারা।

ঢাকার যে কয়টি আসন আছে তার মধ্যে বাণিজ্যিক আসন বলা হয় ঢাকা-১২ আসনকে। এই নির্বাচনী এলাকায় দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট হেড অফিস, টিভি চ্যানেল সেন্টার এবং তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাঁচাবাজার অবস্থিত। এ আসনটিও এখন জামায়াতের দখলে।

রাজধানীতে প্রথমবার সংসদীয় আসন জয়ের মাধ্যমে জামায়াত শুধু নির্বাচনী সাফল্যই পায়নি, বরং ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে স্থায়ী উপস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে দলটির প্রভাব বাড়বে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের এই উত্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখছেন, কারণ এর আগে ঢাকা মহানগরীতে তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক ভোট এত বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: npbnews.com

Leave a Reply

Back to top button