লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে ২ কোটি টাকাসহ আটক করল সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের ঠিক আগের দিন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা উদ্ধারের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ‘১৫ লাখ’ টাকার কথা বললেও স্থানীয়দের দাবি টাকার অংক ‘২ কোটি’ ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে, কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া এবং সাংবাদিকদের তোপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেট নওরিনের পলায়নের ঘটনায় এলাকায় ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের ঝুমুর গোল চত্বর এলাকায় এ্যানি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ও খালাত ভাই বদরুল আলম শ্যামলের গাড়ি তল্লাশি করে সেনাবাহিনী। তল্লাশিতে বস্তাভর্তি বিপুল অর্থ পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিওতে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, উদ্ধারকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি।
যদিও জেলা প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার নওরিন দ্রুত ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু এ্যানি চৌধুরীর নিজের ভিডিও বার্তাই সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভিডিও বার্তায় এ্যানি চৌধুরী দাবি করেন, তিনি ‘কেন্দ্র প্রতি ১৫ লাখ টাকা’ করে ‘কেন্দ্র ফি’ বাবদ এই অর্থ পরিবহন করছিলেন। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে কয়েকশ কেন্দ্র থাকায় গাণিতিক হিসেবে এই টাকার পরিমাণ ২ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। একটি ব্যাগের জন্য ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার হওয়ার দাবিকে তাই ‘আইওয়াশ’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
নির্বাচনী আইনে ‘কেন্দ্র ফি’ বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। প্রার্থীর হয়ে কেউ নগদ লাখ লাখ টাকা বহন করা স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। ইসির বিধি অনুযায়ী, সব ব্যয় ব্যাংকিং চ্যানেলে হতে হবে এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের সীমা মাত্র ২০ হাজার টাকা। সেখানে কোটি কোটি টাকা নগদ বিতরণের এই ছক সরাসরি ভোট কেনাবেচার শামিল।
ঘটনার পর সেনাবাহিনী এ্যানির সহকারী শ্যামলসহ দুজনকে আটক করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় তড়িঘড়ি করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাতে আটককৃতদের ছেড়ে দিয়ে আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার নওরিন।
কেন তাদের কোনো সাজা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে তিনি পালিয়ে যান। প্রশাসনের এমন পলায়নপর ও রহস্যজনক ভূমিকা প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী এই প্রার্থীর কালোটাকার উৎস আড়াল করতে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে।
স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর আবার সেই পুরনো কায়দায় কালোটাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার সাধারণ ভোটারদের মর্মাহত করেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কেবল শোকজ বা লোকদেখানো জিজ্ঞাসাবাদ নয়, বরং ২ কোটি টাকার উৎস এবং প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।
বিস্তারিত https://www.facebook.com/share/v/17iRyMjfQL/

