Bd বাংলাদেশ

শাহবাগে ফের পুলিশের পিটুনিতে ইনকিলাব মঞ্চের শতাধিক কর্মী আহত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবরোধে নামা নেতা-কর্মীদের আবারো লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের বাধা উপেক্ষা অনেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। একই সাথে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

কাঁদুনে গ্যাসের কারণে এ দফাতেও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন।

পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে ইনকিলাব মঞ্চের শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৯৬ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এর আগে, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়। পরে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত ৯৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন আবার অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ( ৫ফেব্রুয়ারি) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ আগে থেকেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ব্যারিকেড বসায়।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: dailynayadiganta.com

Leave a Reply

Back to top button