নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে জারি করা রুল খারিজ, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে বাধা নেই
‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত বছরের ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে এই রিটটি করা হয়েছিল। রিটে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ। এই রায়ের ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ইতিপূর্বে দ্বৈত বেঞ্চে দ্বিধাবিভক্ত রায় হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি এই তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীর অন্যতম আইনজীবী আনোয়ার হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রুল ডিসচার্জ করে রায় দিয়েছেন। রিট খারিজের সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আপিল শুনানি হবে।’
অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।’
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, ‘দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়, যা আইনগতভাবেই হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম এগোচ্ছে তা ২০১৭ সালের প্রকিউরমেন্ট পলিসি ও সমঝোতা স্মারকের অধীনে। পলিসিতে কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি বাছাই বা নির্বাচন করার সুযোগ আছে। আবার দরপত্রের কথাও রয়েছে। আইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। এখানে আইন চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।’
ঘোষিত রায়ে রিটটি ‘অপরিপক্ব’ উল্লেখ করে আদালত আরও বলেন, কাউকে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
রায়ের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের পিপিপি অ্যাক্ট, ২০১৭ সালের জিটুজি পলিসি ও ২০১৮ সালের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, অর্থাৎ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে রায়ে এসেছে। এখানে আইনবহির্ভূত কিছু নেই। আর ডিপি ওয়ার্ল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারেরই কোম্পানি।’
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। ওই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াটি অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে বেঞ্চের অপর বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিটটি খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেন। নিয়মানুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। গত ২৫ নভেম্বর এই বেঞ্চে শুনানি শেষ হয় এবং আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল।
গত বছরের ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেকোনো অপারেটর নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এই রিটটি দায়ের করেন। এতে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত বছরের ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে এই রিটটি করা হয়েছিল। রিটে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: tbsnews.net

