ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন ইস্যুতে যা জানাল জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশে নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের ভূমিকায় যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি জানান, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে এখনও দলীয়ভাবে কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত ও আলোচনা চলছে এবং দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’
অন্যদিকে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে লিখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
মূলত এই দুই রাজনীতিকে ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
তথ্যমতে, ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি বিশেষ কাঠামো, যা মূলত ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে জনপ্রিয়। এতে প্রধান বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ নিয়োগ দেয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা থেকে দেখা যায়, সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করা হয়।
এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হলো সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়। এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: npbnews.com

