নির্বাচনে বাম জোটের ভরাডুবি, জামানত হারিয়েছেন সব প্রার্থী

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থি দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। জয় তো দূরের কথা, সব আসনেই এই জোটের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ, আসনে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি।
বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল। গত বছর ২৯ নভেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। নতুন এই জোটে পরে আরও বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে যুক্ত করা হয়। এই যুক্তফ্রন্টে হয় আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম। জোটগতভাবে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়।
এই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে চারটি। দলগুলো হলো– বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ। এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়। মোট ৯৭টি আসনে জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেয়া হয়েছিল।
এর বাইরে জোট থেকে নিজস্বভাবেও দলগুলো প্রার্থী দিয়েছিল। সবমিলিয়ে এই জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থী ছিল ১৪৭টি আসনে। এর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী ছিল ৬৫ আসনে, বাসদের প্রার্থী ছিল ৩৭ আসনে, বাসদের (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ছিল ১৫টি আসনে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মণীষা চক্রবর্তী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বরিশাল-৫ আসন থেকে। মণীষা চক্রবর্তী ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনে যত সংখ্যক ভোট পড়বে, তার আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ১৪৭টি আসনে বাম দলগুলোর যে প্রার্থীরা লড়েছিলেন, তারা সেসব আসনের প্রত্যেকটিতে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি।
এ বিষয়ে বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, গৃহীত ভোটের শতকরা ৮ ভাগ ভোট যদি প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে। আর যদি গৃহীত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটের প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে না। অন্যান্য আসনে আমাদের জোটের অন্য প্রার্থীরা অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। অনেকেই এক হাজারের নিচে ভোট পেয়েছেন।
এই জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিজয়ী হন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে জামানত টিকিয়ে রাখতে পারেননি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ১০ ভোট পেয়েছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুইজনই জামানত হারিয়েছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রার্থী হয়েছিলেন নরসিংদী-৪ আসন থেকে এবং আবদুল্লাহ কাফী রতন প্রার্থী হয়েছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনে। এই জোটের অধিকাংশ প্রার্থীই ভোট পেয়েছেন এক হাজারের নিচে। কোনো কোনো প্রার্থী দুই বা তিন হাজার ভোট পেয়েছেন।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক সিপিবি থেকে মোট ৬৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কিশোর রায়। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৯টি।
এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এএইচএম রফিকুজ্জামান আকন্দ কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) এএফএম ইসমাইল চৌধুরী মোটরগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ ভোট।
বার্তা বাজার/এস এইচ
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com

