Bd বাংলাদেশ

২৯২ আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ, কোন দল কত আসন পেল

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯২টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এ ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা পর্যন্ত ইসি ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১২টি আসনে জয় পেয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭২টি আসনে। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। এদের মধ্যে একটি আসন গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দখলেও রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত। এছাড়া, ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনটি আসনের ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনগুলো হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলে দলীয় প্রধানদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। মহাসচিব পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব ও রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন, তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ান নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জ-১ আসনে বেসরকারি ফলে বিএনপির রেজা কিবরিয়া বিজয়ী

সবশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আসনটিতে ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।

এছাড়া, ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আসনটিতে ৫৭ হাজার ৯২ ভোট ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। আসনটিতে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।

ঢাকা-৬ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এই আসনে ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট পেয়েছেন তিনি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেছেন তিনি। এই আসনের মোট ৬২টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ধানের শীষের প্রার্থী শুরু থেকেই ভোটের দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ হাজার ১৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। আসনটিতে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৭টি।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ আসনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন। এ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা আবু নসর আশরাফী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট।

আরও পড়ুন: বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ

একই জেলার ২, ৩ ও ৫ নং আসনেও জয় পেয়েছে বিএনপি। আর ৪ নং আসনটি গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দখলে। এর মধ্যে চাঁদপুর-২ আসনে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪০৬ ভোট।

চাঁদপুর-৩ আসনে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬৫ ভোট।

চাঁদপুর-৫ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন মো. মমিনুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৮৫।

তবে, চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান। আসনটিতে ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো.হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩।

ফেনী-২ আসনে বিএনপিকে জয় এনে দিয়েছেন জয়নাল আবদীন। এ আসনে ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। নেত্রকোনা-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভুঁইয়াকে (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। আসনের ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনায় তিনি পেয়েছেন মোট ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ২৫১।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোট থেকে ট্রাক প্রতীকে দাঁড়ানো গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৫০ ভোট।

৫৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জিতেছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি তার দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’-এ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের হাত ধরে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।

আরও পড়ুন: ঢাকা-৫ আসনে বড় ব্যবধানে জয় জামায়াত প্রার্থীর

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭২ হাজার ৫২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে কামরুজ্জমান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৫ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট।

এছাড়া, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। চিরচেনা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট। অর্থাৎ, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপিকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটের বিশাল ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

কিশোরগঞ্জ ৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আরেক আলোচিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট। অর্থাৎ, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমান।

এছাড়া, মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনেই বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজী পেয়েছেন ১ লাখ এক হাজার ৫৬৮ ভোট। ৬৫ হাজার ৯৯৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পান আব্দুল্লাহ।

মুন্সীগঞ্জ-২ (টংগিবাড়ী-লৌহজং) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম পান ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। এখানে ব্যবধান ৬২ হাজার ৫৮১ ভোটের। মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত মো. কামরুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পান ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট। এই আসনে জয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৭৫৫টি।

বিএনপি জয় পেয়েছে লালমনিরহাটের ৩ আসনেও। এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপির হাসান রাজিব প্রধান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ ভোটে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে ৭ হাজার ৯৫৯, জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা লাঙ্গল প্রতীকে ৫ হাজার ১৫৮, লেবার পার্টির শুভ আহম্মেদ ১৪৩, স্বতন্ত্র রেজাউল বারি সরকার মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮০৪, স্বতন্ত্র রেদাউনুল হক তালা প্রতীকে ১৯১, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল কবীর শাহরীয়ার ৪ হাজার ৪৪২, জাসদের হাবিব মোহাম্মদ ফারুক ২২৬ ভোট পেয়েছেন।

লালমনিরহাট-২ (কালিগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে বিএনপির রোকনউদ্দিন বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৬ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩ হাজার ৪৯৯, ইসলামী আন্দোলনের মাহফুজুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৯৩৯ ভোট, জনতার দলের ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামিম কামাল কলম প্রতীকে ২০ হাজার ১২৭ ভোট পেয়েছেন।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আবু তাহের ৫৬ হাজার ২৪৪ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের দ্বীপক কুমার ৪২৯, সিপিবির মধুসূধন রায় কাস্তে প্রতীকে ৮৬৯, ইসলামী আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৩, জাতীয় পার্টির জাহিদ হাসান লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১৫০ ভোট পেয়েছেন।

বিএনপি বড় ধরনের জয় পেয়েছে জামালপুরে। এ জেলার ৫টি আসনেই দাপুটে জয় পেয়েছেন দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। এর মধ্যে জামালপুর-১ আসনে ১ লাখ ৭২ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো.নাজমুল হক পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৬৬১ ২ ভোট।

জামালপুর-২ আসনে ৯৫ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছামিউল হক ফারুকি পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট। জামালপুর-৩ আসনে ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৭ ভোট। জামালপুর-৪ আসনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ-৪ আসনে তৃতীয় বিএনপির রাশেদ খান, জয়ী জামায়াতের আবু তালিব

আর জামালপুর-৫ আসনে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৬৯৫ ভোট।

বিএনপির দাপট দেখা গেছে হবিগঞ্জেও। এ জেলার চারটি আসনেরই ফল গেছে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ–১ আসনে বড় ধরনের জয় পেয়েছেন বিএন‌পির আলোচিত প্রার্থী রেজা কিবরিয়া। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলা‌দেশ খেলাফত মজ‌লিস প্রার্থী মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট।

হ‌বিগঞ্জ-২ আস‌নে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএন‌পির প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজ‌লিসের প্রার্থী মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ পে‌য়ে‌ছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট। হবিগঞ্জ-৩ আসনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। আর হবিগঞ্জ-৪ আসনে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩‌ ভোট।

জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির হয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন মো: আব্দুল বারী। আসনটির ১০৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১২ ভোট।

নড়াইল-১ আসনে ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। এদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে হার মেনে নিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।

অন্যদিকে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীকে ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান। আসনটিতে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান পেয়েছেন মোট ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট।

ঢাকা-৪ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।

এছাড়া, আলোচিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এই আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতেই আধিপত্য দেখা গেছে শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থীর।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের হয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আসনটিতে ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পেয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা হাতপাখার প্রার্থী আবদুল মালেক পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৯ ভোট।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। শাপলা কলি প্রতীকে হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আসনটির ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতিকুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।

আরও পড়ুন: বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য গণনা অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়েছে: জামায়াত

নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীকে জয় এনে দিয়েছেন আতাউর রহমান। ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের আসন দুইটি। সেখানে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত ও জোটপ্রার্থীরা। এর মধ্যে মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে যে, জামায়াত সমর্থিত জোটপ্রার্থী তাজউদ্দীন খান তার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট।

আর মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হুদা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট। এই আসনে দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭৯। এছাড়া, সাতক্ষীরা জেলার নির্বাচনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে (পোস্টাল ভোটসহ) তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে গণভোট হ্যাঁ পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪০৪। না ভোট ১ লাখ ২১ হাজার ২৫৬। ৭৫.৬৪ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক। ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ ভোট। আব্দুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষকে পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ে উঠে এসেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতের রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ভোট। ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে রবিউল বাসার জয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষে ৫৬ হাজার ৮১৯ পান। এখানে গণভোট হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৫, না ভোট ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩। ৭০.৯৯ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। ২১ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নজরুল ইসলাম। গণভোট হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১, না ভোট ৬০ হাজার ৭৭৯ ভোট। ৬৭.৭৬ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশাল বিজয় অর্জন করেছে নীলফামারীতেও। এ জেলার ৪ আসনেই জয়ের দেখা পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১৫৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের খেজুর গাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১৩৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৫হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ১০৫ কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১০২ ভোট।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৬৯ কেন্দ্রে ১ লাখ ২৪হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।

এদিকে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে একমাত্র বিজয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসনে দলটির মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ তিনি মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়েছেন৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন।

বরগুনা-২ আসনটি আবার গেছে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণির দখলে। ৮৯ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৫ ভোট।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Leave a Reply

Back to top button