Bd বাংলাদেশ

মিডিয়া ও প্রশাসন কিনে ভোট চুরির মরিয়া চেষ্টা: পরাজয়ের ভয়ে দেশজুড়ে বিএনপির নজিরবিহীন নৈরাজ্য

দীর্ঘ ১৮ মাস পর আজ বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে। একদিকে জেন-জি প্রজন্মের বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষা আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা—এই দুইয়ের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপি এখন ক্ষমতা দখল করতে বেছে নিয়েছে ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি এবং মিডিয়া ট্রায়ালের এক নোংরা পথ। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন জরিপ এবং একাধিক বিশ্বস্ত সংবাদ সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে যে, বিএনপি তাদের ভরাডুবি ঠেকাতে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

সাম্প্রতিক এক নিরপেক্ষ জরিপে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জনসমর্থন ৭৪ শতাংশ, যেখানে বিএনপির ঝুড়িতে মাত্র ২২ শতাংশ। এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখে কিংকর্তব্যবিমূড় বিএনপি এখন অর্থের জোরে দেশের মূলধারার বেশ কিছু মিডিয়া হাউসকে হাত করেছে। ‘মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ’-এর এক বিশ্লেষণেও ধরা পড়েছে যে, অধিকাংশ মিডিয়া নগ্নভাবে বিএনপির পক্ষে কাজ করছে এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

নির্বাচন প্রভাবিত করতে দেশজুড়ে বিএনপি ও ছাত্রদল যে কত বড় অংকের অর্থ ছড়িয়েছে, তা গত ২৪ ঘণ্টার কিছু আটকের ঘটনায় প্রমাণিত:

লক্ষ্মীপুরে চৌধুরী এ্যানির ২ কোটি টাকা: লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা চৌধুরী এ্যানির গাড়ি থেকে ২ কোটি টাকা (অনেকের দাবি ১৫ লক্ষ) ও অস্ত্রসহ আটক করেছে সেনাবাহিনী। ভিডিও বার্তায় এ্যানি নির্লজ্জভাবে স্বীকার করেছেন যে, প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য তিনি ১৫ লাখ টাকা করে ‘কেন্দ্র ফি’ (যা সম্পূর্ণ অবৈধ) বরাদ্দ করেছেন।

পটুয়াখালীতে ৫০ লাখ: পটুয়াখালীতে ৫০ লাখ টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক হলেও মূলধারার মিডিয়াগুলো এ নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার: গুলিভর্তি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও আশুলিয়ায় ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে ডজনখানেক বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

বিএনপি এখন নতুন এক কৌশল নিয়েছে—জামায়াতের পোলিং এজেন্ট বা নেতাদের আটক করে নিজেরা মারধর করছে এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোট কেনার’ অপবাদ দিচ্ছে। শরীয়তপুর ও মির্জাগঞ্জের ঘটনা এর প্রমাণ। জামায়াত নেতাদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় বা পোলিং এজেন্টের খরচকে ‘ভোট কেনার টাকা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে সাজানো মব তৈরি করছে বিএনপি। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ ও প্রলোভন দিয়ে তারেক রহমান নিজে নিজের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন—এমনকি নীলফামারীতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তিন দিন আগে তারেক রহমানের লাঞ্চ করানোর তথ্যও ফাঁস হয়েছে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে খোদ বিএনপির ভেতরেই শুরু হয়েছে ভাঙন। আশুলিয়ায় ছাত্রদলের নেতাসহ ১৮ জন এবং নড়িয়ায় এক যুবদল নেতা ভোটের আগের রাতে জামায়াতে যোগদান করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপি এখন প্রথম আলোর মতো মাধ্যম ব্যবহার করে ‘ভুঁয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর নিউজ প্রচারসহ নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এমনকি কুড়িগ্রামে ঢাবি শিক্ষার্থী আশিকের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের হামলা এবং এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর ওপর বিএনপির আক্রমণ প্রমাণ করে যে, তারা কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় না।

আজকের এই গণভোট ও সাধারণ নির্বাচনে জেন-জি ভোটাররা যে বিএনপির এই পা চাটানো রাজনীতি ও মিডিয়া প্রোপাগান্ডাকে রুখে দেবে, তার প্রমাণ মিলেছে সারা দেশের নির্বাচনী আমেজে। মানুষ আর কোনো ‘হাওয়া ভবন’ চায় না, চায় সংস্কারের স্থায়ী পথ। কালো টাকা ও মিডিয়া দিয়ে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন যে আজকের বাংলাদেশের সচেতন জনতা নস্যাৎ করে দেবে—তা আজ সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Leave a Reply

Back to top button