Bd বাংলাদেশ

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার হলে উচ্চকক্ষে বিএনপি ৪৮, জামায়াত ৩৩, এনসিপি সহ জোটসঙ্গীরা পেতে পারে ৫ আসন

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়ায় জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠনে নির্বাচিত সব দল একমত হলেও ধোঁয়াশা রয়েছে আসন বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে। গণভোটের রায় অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। তবে সরকার গঠন করতে যাওয়া দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল, সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এ বিষয়ে বিএনপি এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। সূত্র জানায়, তারা ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে গণভোটের রায়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে, কারণ জনগণ সুনির্দিষ্টভাবে এই রায় দিয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে বিএনপি পাবে ৪৮টি এবং জামায়াত পাবে ৩৩টি। এছাড়া উচ্চকক্ষে এনসিপিসহ জোটসঙ্গীরা পাবে ৮ আসন। নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে হলে বিএনপি পাবে ৬৯টি এবং জামায়াত পাবে ২২টি। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কমপক্ষে ৮ মাস সময় লাগবে। চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করবে জাতীয় সংসদ। ত্রয়োদশ সংসদ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে সংসদ-সদস্যরা এ সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করবেন।

বর্তমানে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৩০০। জুলাই সনদ অনুযায়ী ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে দুইকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়- নিম্ন ও উচ্চকক্ষ। নির্বাচিত ৩০০ সদস্যের নিম্নকক্ষের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে সরকার তা গণভোটে দেয়। প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিল- রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কিন্তু বিএনপির ইশতেহারে ছিল প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জুলাই সনদসংক্রান্ত) মনির হায়দার বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অনেক বিষয় থাকে। ফলে সেখানে একক কোনো বিষয় পরোক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গণভোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ হবে। ফলে এর আইনগত ভিত্তি আছে।" তিনি বলেন, "দলগুলো যেমন নিজেদের ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি দলের শীর্ষ নেতারা গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষেও সমর্থন দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়া কেবল সরকারের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র এবং সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা।"

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে উপস্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতেই জনরায় এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে ভূমিকা রেখেছে এবং দেশ পরিচালনা ও সংবিধান সংস্কারে জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে বলে আশা করা যায়। শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে বিএনপি পাবে ৪৮টি, জামায়াতে ইসলামী ৩৩টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের শরিকরা ৫টি, মতান্তরে ৯টি আসন। নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে বণ্টন হলে চিত্র বদলাবে। এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি, সে হিসাবে উচ্চকক্ষে পাবে ৬৯টি। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, ফলে পাবে ২২টি। জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি আসন পাওয়ায় উচ্চকক্ষে পাবে ২টি। অন্যান্য দল মিলে পাবে আরও ৭টি।

জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতার কথা বলা হয়নি। ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের সদস্যদের যে যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, উচ্চকক্ষেও তা প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি নন এবং ফৌজদারি অপরাধে ২ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত নন- এমন ব্যক্তি উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারবেন। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই সদস্য হতে পারবেন। এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে আইন ও বিধি প্রণয়ন করবে সরকার।

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমতি প্রয়োজন হবে। রাষ্ট্রপতির অভিসংশনে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। তারা প্রশ্ন উত্থাপন করে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারবে, তবে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারবে না এবং অন্য কোনো বিলে ভোট দিতে পারবে না।

জুলাই আদেশ অনুযায়ী নতুন এমপিরা শপথ নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ কার্যদিবস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবেন এবং জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এর পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হলে একই দিনে উচ্চকক্ষের মেয়াদও শেষ হবে। ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। ফলে আগামী ৮ মাসের আগে উচ্চকক্ষ গঠনের সম্ভাবনা নেই।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedeltalens.com

Leave a Reply

Back to top button