Bd বাংলাদেশ

জামায়াত নেতাদের টাকা ‘ছিনতাই’ করে ভোট কেনার নাটক ফাঁদলো বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ

ভোটের ঠিক আগের দিন সিরাজগঞ্জ-২ (কামারখন্দ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর পোলিং এজেন্টদের খরচের টাকা ছিনতাই করে উল্টো ‘ভোট কেনার’ অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় আটককৃতদের ছেড়ে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল মমিন ও যুব বিভাগের সভাপতি ইমদাদুল হকসহ চারজন সিএনজিযোগে পোলিং এজেন্টদের খরচ ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চৌবাড়ী এলাকায় বিএনপির একদল নেতাকর্মী তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাদের সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে তাদের ব্যাগ তল্লাশি করছে। এসময় তারা দাবি করেন, জামায়াত নেতারা ভোট কেনার জন্য টাকা নিয়ে বের হয়েছেন। বিএনপি কর্মীরা জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে টাকা ও প্রচার সামগ্রী কেড়ে নিয়ে সেখানে লোক জড়ো করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

আটক হওয়া জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, এটি কোনোভাবেই ভোট কেনা নয়, বরং তাদের পোলিং এজেন্টদের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা বিএনপির লোকজন ছিনতাই করেছে। কেড়ে নেওয়া ব্যাগে পোলিং এজেন্টদের ফরম, স্বেচ্ছাসেবকদের টি-শার্ট ও ব্যাজ ছিল। বিএনপি কর্মীরা ২ লাখ টাকা ছিনতাই করলেও প্রশাসনের কাছে মাত্র ৭১ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং পুরো বিষয়টিকে ‘ভোট কেনার নাটক’ হিসেবে সাজিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, বিএনপির লোকজন চারজনকে আটক করে ৭১ হাজার টাকা উদ্ধারের দাবি করলেও জামায়াত নেতারা ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পাল্টা অভিযোগ করেছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তাদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে যা তারা পোলিং এজেন্টদের খরচ দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই পক্ষের বক্তব্যে টাকার পরিমাণে গরমিল এবং বিএনপির লোকজনের দাবি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি জুডিশিয়াল তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”

ঘটনাটি সাজানো মনে হওয়ায় এবং কোনো প্রাথমিক প্রমাণ না পাওয়ায় আটককৃত জামায়াত নেতাদের সম্মানজনকভাবে ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসন। তবে ছিনতাই হওয়া বাকি টাকার হদিস মেলেনি।

ভোটের আগের দিন বিএনপির এই ‘ছিনতাই ও সাজানো নাটক’ নিয়ে কামারখন্দে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত দেখে বিএনপি এখন পেশিশক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Back to top button