২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন— এমন ভোটারদের প্রথম পছন্দ জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
২০০৮ সালের পর এই প্রথম ভোট দিতে যাওয়া ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। ফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা এবং নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়। স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।
জরিপের ফল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথম ভোট দেবেন—এমন ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন। ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত অথবা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি ও সুশাসন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিপরীতে, ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি, দায়িত্বশীল ও কার্যকর নেতৃত্বে বিশ্বাসী নেতাদের বেশি পছন্দ করছেন। রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগও উঠে এসেছে জরিপে। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার তুলনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটাররা বেশি শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bdtoday.net

