Bd বাংলাদেশ

টিউলিপ সিদ্দিকের খালার শাসনামলে বাংলাদেশিদের ‘গণকবরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল’

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে শত শত বাংলাদেশিকে হত্যা করে নদীতে নিক্ষেপ এবং গণকবরে দাফনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। সরকারের গঠিত এক অনুসন্ধান কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনফোর্স ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ২৮৭ জনকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমিশনের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে সিনিয়র বিরোধী রাজনীতিকরাও ছিলেন। পরিচিত রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ভুক্তভোগীদের প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিলেন শেখ হাসিনার বিরোধী দল—জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সদস্য বা সমর্থক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এসব কর্মকা- চালিয়েছে। শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের খালা। টিউলিপ সিদ্দিক এক বছর আগে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।

কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন জানান, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকার জুরাইনে দুটি অচিহ্নিত গণকবর শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে গুলিবিদ্ধ লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া হলে তিনি এসব তথ্যকে “জঘন্য” বলে অভিহিত করেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এক-ষষ্ঠাংশ ভুক্তভোগী এখনও নিখোঁজ, যা পরিবারগুলোর জন্য গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদ- দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং অনুপস্থিতিতেই বিচার চলছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ দাবি করেছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুম ও নিপীড়ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং রাজনৈতিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: bartabazar.com

Back to top button