Bd বাংলাদেশ

স্মরণকালের সেরা ফলাফলের অপেক্ষায় জামায়াত

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

‘না’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান বিএনপিপন্থি কণ্ঠশিল্পী ন্যানসির
  • ইয়াবাসহ কৃষকদলের নেতা আটক
  • অন্য দিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাথের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের হাতবদল ঘটেছে। যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন মুখে মুখে। যে কারণে তাদেরকে আওয়ামী লীগের মতোই মনে করছে দেশের মানুষ। তারা ক্ষমতায় এলে আগের মতোই দুর্নীতি-চাঁদাবাজির সংস্কৃতির তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করছে একশ্রেণীর মানুষ। এসব ঘটনাও মানুষকে জামায়াতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে জামায়াতের তালিকাভুক্ত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এখন দেশের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ জামায়াতকে ভোট দেয়ার কথা বলছে। তাদের বক্তব্য এমন- এত দিন আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে দেখেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, জামায়াতকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখা যাক।

    নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ : এবারের নির্বাচনে ভোট চাইতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রতিটি এলাকায় নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে নারীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই নারী কর্মীদের মিছিল হয়েছে। এসব মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো, যা দেশে-বিদেশে সাড়া জাগিয়েছে। জামায়াতকে ইসলামী দল হিসেবে নারীর স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অপপ্রচার চালালেও নারীদের এ ধরনের অংশগ্রহণ সে অপপ্রচারে ধাক্কা দিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশী নারী রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠকে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতাদের অংশগ্রহণও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সংখ্যালঘু প্রার্থী : একটি ইসলামী দল হওয়ার পরও জামায়াত এবারই প্রথম সংখ্যালঘু হিন্দুদের থেকে একজন প্রার্থী করেছে। যদিও জামায়াত বলছে তারা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু পার্থক্য করতে চায় না। তবুও যেখানে এত দিন সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে ভাগ হয়ে ছিল সেখানে এবার জামায়াতের প্রার্থী হওয়া একটি বিশেষ ঘটনা। ডাকসু-জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিয়ে প্যানেল করে সাড়া ফেলেছে ছাত্রশিবির। একইভাবে হিন্দু প্রার্থী দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতও। এ প্রক্রিয়ায় শিবিরের মতো জামায়াতও একইভাবে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছে।

    ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক : জামায়াত বিগত সময়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করলেও সেখানে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা অংশ নিতেন। কিন্তু এবারই প্রথম জামায়াতের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে প্রথম শ্রেণীর ব্যবসায়ী ও নেতারা অংশ নিয়েছেন। সেখানে তারা জামায়াতের কাছে তাদের আশা-প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন, যা জামায়াতকে আগামীর ক্ষমতাসীন হিসেবে তুলে ধরেছে।

    পলিসি সামিট : জামায়াত এবার দেশের বড় একটি হোটেলে পলিসি সামিট করেছে। যেখানে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, নারী, যুবকদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দলটি। ওই সামিটে বিদেশী রাষ্ট্রদূতসহ দেশের বিশিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেন। সামিটে নারীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

    ইশতেহার : জামায়াত তার নির্বাচনী ইশতেহারে আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কী করবে সেগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। যাতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের কথা ফুটে উঠেছে। জামায়াতের এ ইশতেহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের যোগ্যতা ও চিন্তা-ভাবনার স্পষ্টতা জনমনে প্রভাব ফেলেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া : এবারের নির্বাচনের প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠেছে। জামায়াতের নিজস্ব পেজ ছাড়াও আমিরের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত জামায়াতের কার্যক্রম প্রচার করা হচ্ছে। এতে তরুণদের মধ্যে দ্রুতই জামায়াতের চিন্তা-ভাবনা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের শিকারও হতে হয়েছে জামায়াত আমিরকে। তবে সেই মাধ্যম থেকেই দ্রুতই অভিযোগ খণ্ডাতে পেরেছে দলটি।

    আলোচনার কেন্দ্রে জামায়াতের আমির : বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এখন হঠাৎ করেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন। রাজধানী ঢাকার পোস্টার-বিলবোর্ডজুড়ে এখন ভেসে উঠছে সাদা দাড়িওয়ালা এই নেতার মুখ, যেখানে ভোটারদের দেশের ‘প্রথম ইসলামপন্থী সরকারকে’ ক্ষমতায় আনার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা এত দিন মূলত ইসলামপন্থী মহলের বাইরে বেশি পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দলটির প্রধান হিসেবে তিনি এখন প্রায় অজ্ঞাত পরিচয় অবস্থা থেকে উঠে এসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দী হন ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়। শেষমেশ দলটি নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২২ সালে দলটির বর্তমান আমির ডা: শফিকুর রহমানকেও গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি ১৫ মাস কারাভোগ করেন। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান জামায়াতের ভাগ্য বদলে দেয়। সে বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পরে ২০২৫ সালে আদালত দলটির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, ফলে বহু বছর নির্যাতিত জামায়াত আবার প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ পায়। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দলটি দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, বন্যা-ত্রাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগে মাঠে নামে। সব সময় সাদা পোশাক ও সাদা দাড়িতে চিহ্নিত ডা: শফিকুর রহমান এসব কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। একজন বিনয়ী, আন্তরিক ব্যক্তি হিসেবে যিনি সরলতা, শৃঙ্খলা, সহজ প্রবেশযোগ্যতা ও সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী হিসেবে তিনি সবার নজর কাড়েন।

    গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সাথে কাজে লাগান শফিকুর রহমান। তিনি সারা দেশ ভ্রমণ করেন ও গণমাধ্যমে ব্যাপক নজর কাড়েন। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে, যেখানে জামায়াত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইসলামী মূল্যবোধনির্ভর ‘পরিচ্ছন্ন, নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে। গত ডিসেম্বরেই দলটি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সাথে জোট গঠন করেছে, যা তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এমনকি শফিকুর রহমানকে নিয়ে গেম অব থ্রোনস থেকে অনুপ্রাণিত প্রচারণা পোস্টারও দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা ‘দাদু ইজ কামিং’। এর মাধ্যমে তাকে একজন সহজ ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অবশ্য অনেকে আবার জামায়াত আমিরকে একজন ‘আরো মধ্যপন্থী’ মুখ হিসেবে দেখছেন, যিনি সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়ে দলের ভাবমর্যাদা নরম করার চেষ্টা করেছেন। আবার তিনি সব ধর্মের প্রতি সমান আচরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এ ছাড়া নারীদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ও তার দল জামায়াতে ইসলামী অন্যতম নারীবান্ধব হয়ে উঠেছে।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের নির্বাচনী জনসভাগুলোতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ আলোড়ন তুলেছে। আশা করছি, ভোটেও এ জনজাগরণের প্রতিফলন ঘটবে। মানুষ দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজাদের প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা এবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের চিন্তা-ভাবনা করছি।

    -->

    প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

    Source: dailynayadiganta.com

    Leave a Reply

    Back to top button