ট্রাকের প্রচারে মাইক কেড়ে নিয়ে বিবাদে বিএনপির দুই নেতা

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
কেন্দ্রের নির্দেশে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে প্রচারে নেমে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপির দুই নেতা ও তাদের অনুসারীরা। গতকাল রোববার প্রচারকালে বিএনপি নেতা তারেক মুন্সীর কাছ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মাইক কেড়ে নিলে বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) সংসদীয় এলাকায়। অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য অনতিবিলম্বে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও তাঁর আপন চাচাতো ভাই এ এফ এম তারেক মুন্সী। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঞ্জুরুল মুন্সী দলের মনোনয়ন পেলেও ঋণখেলাপি আর হলফনামার তথ্য গোপনের ঘটনায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থিতা হারান। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির হাইকমান্ড মঞ্জুরুল মুন্সী ও তারেক মুন্সীকে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে ট্রাক প্রতীকের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে মাঠে নামেন মনোনয়ন হারানো মঞ্জুরুল মুন্সী, বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান লিটন, এ এফ এম তারেক মুন্সী, ঢাকার তিতুমীর কলেজের সাবেক জিএস আব্দুল আউয়াল খানসহ দলের নেতারা। গণসংযোগকালে তারেক মুন্সীর হাত থেকে মঞ্জুরুল মুন্সী মাইক কেড়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়ের পুরোনো বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের অভিমত, নির্বাচনের তিন দিন আগে বিএনপির দুপক্ষের এমন বিরোধ জোটের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলবে। এই বিবাদের সুযোগ নিতে পারেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
গতকাল রোববার দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গিয়াসউদ্দিন এবং সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রের নির্দেশে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বে গণসংযোগ করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গতকাল দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে ট্রাক মার্কার গণসংযোগকালে বক্তব্য দিচ্ছিলেন এ এফ এম তারেক মুন্সী। হঠাৎ মাইক কেড়ে নিয়ে তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ধানের শীষের মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এমন আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।
বিবৃতিতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি। অনতিবিলম্বে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের জন্য তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, ভোটের মাত্র তিন দিন আছে, শেষ সময়ে এসে দলের নেতার (মঞ্জুরুল মুন্সী) এমন আচরণ দুঃখজনক।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর আমরা ট্রাক প্রতীকের প্রচারে মাঠে নেমেছি। কিন্তু মনোনয়ন হারানো মুঞ্জরুল আহসান মুন্সীর প্রকাশ্যে এমন আচরণ কোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচারে পড়ে? আমি আলাদাভাবে জোটের প্রার্থী জসিমের জন্য কাজ করব।’
অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। প্রচারকালে মঞ্জুরুল মুন্সীর গাড়িতে থাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (মঞ্জু গ্রুপ) আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান বলেন, বিষয়টি তাদের (মঞ্জুরুল-তারেক) দুই ভাইয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। দলের এই সংকটময় সময়ে উপজেলা বিএনপি থেকে মঞ্জুরুল মুন্সীকে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
মঞ্জুরুল মুন্সীর অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া জানান, নির্বাচনের তিন দিন আগে জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি বিবৃতি দিয়েছে তা দেখেছেন তিনি। বিষয়টি পরে কেন্দ্রে জানানো হবে।
এদিকে এই আসনে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। এই আসনে হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানো কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানের বিজয়ী হবে বলে আশা তাঁর।
ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি ট্রাক প্রতীককে সমর্থন দেওয়ায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বিএনপির নেতারা আমার প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, শেষ মুহূর্তে চমক দেখাতে পারব।’
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com

