Bd বাংলাদেশ

রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র আর জমিদারতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে জামায়াত

জামায়াত পরিবারতন্ত্র আর জমিদারতন্ত্রকে যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেইটা বাংলাদেশে আর কেউ পারেনি।

আমি একবার জামায়াতের এক প্রোগ্রামে দাওয়াতে গেছি। আমি যেহেতু জামায়াতের সাথে যুক্ত না, একটু অকওয়ার্ড লাগছিলো। আউটসাইডার মনে হচ্ছিলো। র‍্যান্ডমলি বসে আছি। র‍্যান্ডমলি আমার পাশে এসে এক লোক বসে আমার সাথে হ্যান্ডশেক করে বললো, আসিফ ভাই কেমন আছেন। আমি প্রথমে উনাকে চিনতে পারিনাই। পুরা প্রোগ্রাম উনি আমার পাশে বসে খুব সাধারণভাবে শেষ করলেন। আমি ভাবলাম উনি বোধহয় আমার চেয়েও অগুরুত্বপূর্ণ কেউ। পরে জানলাম, উনি জামায়াতের শীর্ষ নেতা আলী আহসান মুজাহিদ সাহেবের ছেলে।

মীর কাসেম আলী সাহেবের ছেলে ব্যারিস্টার আরমান সাদিক কায়েমের সাথে ক্যাজুয়ালি বসে আড্ডা দেন, ঘরের লোকের মত। পডকাস্টে দেখে যে কেউ মনে করবে বোধহয় দুইজন ভাই অথবা বন্ধু।

নিজামী সাহেবের ছেলে নকিব সাহেবের সাথে আমি একদিন আলাপ করছিলাম। উনার কথা বলার ভঙ্গিতে কেউ বুঝবে না উনি জামায়াতের সাবেক আমীরের ছেলে। এত সাধারণ। আর এমনভাবে আমার মত আউটসাইডার একটা ছেলেকে তিনি যেভাবে গুরুত্ব নিয়ে শুনলেন।

গোলাম পরোয়ার সাহেবের ছেলে সালমানকে তো অনেকেই চেনেন। সালমান সাদিক, ফরহাদদের বাইকে চড়িয়ে ঘুরে বেড়ায়। হাদী ভাইয়ের সাথে সারাদিন পড়ে থাকতো, গান গাইতো। ডাকসুতে সাদিক ফরহাদদের জন্য ভোট চেয়ে বেড়াইছে সারাদিন। কেউ বুঝবেও না সে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের ছেলে।

জামায়াত এভাবেই এলিটিজমকে ভেঙে দিছে। পরিবারতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখানে সবাই সমান। যোগ্যতাই এখানে মূল মাপকাঠি।

অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করার জন্য ডাকসুর জিএস হামিমরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। নেতা জানালার গ্লাস নামিয়ে তার সাথে একটু কথা বলছেন, এটা তাকে গর্বভরে ফেসবুকে পোস্ট করতে হয়। তারেক রহমানের কন্যা জাইমাকে দেখে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আবিদ নুয়ে পড়ে যায়। আর বাকি কারো তো জমিদারদের কাছে ঘেঁষারও সুযোগ নাই। আবার এইটাকে অনেকে পজিটিভ সেন্সেও পোট্রে করার চেষ্টা করে ‘আভিজাত্য’ নাম দিয়ে।

এইযে পরিবারতন্ত্র, এইযে এলিটিজম, এইগুলা বাংলাদেশের রাজনীতির গুণমান নষ্ট করছে। গোলামীর মানসিকতা তৈরি করছে। পরিবারতান্ত্রিক জমিদারি বা সামন্তবাদ তৈরি করছে।
জামায়াতে ইসলামী আর কিছু করতে পারুক বা না পারুক, এই সামন্তবাদ, জমিদারি প্রথা ভাঙছে।

-আসিফ মাহমুদ

Back to top button