Bd বাংলাদেশ

শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল উখিয়ার সন্তান মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, আদর্শের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার দেখতে পাচ্ছি তার হাওয়া উখিয়া-টেকনাফেও লেগেছে। ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে শহীদ ওসমান শরীফ হাদী ও মুগ্ধসহ শহীদদের রক্তের উপর নির্বাচন। তিনি কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, এখানে কোন রাজনৈতিক সংঘাত চায় না।

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিবেশ চাই। তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ আনোয়ারী ২২ বছরের টানা একজন সফল চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে ২২ পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ নেই। এই আসনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীকে নির্বাচিত করতে হবে। তাহলে উখিয়া-টেকনাফে ভরপুর উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, গত ১৬ মাস ধরে এলাকায় চরম অন্যায়-অনিয়ম চালানো হয়েছে। বাজার, সিএনজি স্টেশন ও বিভিন্ন সমিতি জোরপূর্বক দখল করে একটি বড় দল মানুষের রুটি-রুজির পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গরিব ও মেহনতি মানুষ ও চাঁদা ছাড়া ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। ১১ দলীয় জোট মনোনীত কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সমর্থনে উখিয়ার কোর্টবাজার স্টেশনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকালে অনুষ্ঠিত দাঁড়িপাল্লার এ জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর জিএস ছাত্রনেতা এসএম ফরহাদ বলেছেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি ব্যালট যুদ্ধের, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে বুলেট যুদ্ধের। আবুল তাবুল কাজে সাধারণ মানুষ আর রায় দিবে না। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চাই। এ জনপদ (উখিয়া-টেকনাফে) দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হলে উখিয়ায় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। প্রাণের উখিয়া-টেকনাফকে উন্নত শহর নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত গড়ে তুলতে সকল দলের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, যারা আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন তাদের হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই-পরিবর্তনের এই সময়ে আর সুযোগ নেই সেই অপকর্মের। দাঁড়িপাল্লার গণবিপ্লব হবে উখিয়া-টেকনাফে।

উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফজলের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোলতান আহমদ ও আব্দুর রহীমের যৌথ পরিচালনায় জনসভায় বক্তারা বলেন, উখিয়া-টেকনাফে ইতিপুর্বে অনেক জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের হুমকি, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই দখলদার ও লুটেরা চক্র পুরো বাজার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।

১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন, আনোয়ারী বিজয়ী হলে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। দখল হয়ে যাওয়া বাজার, সিএনজি স্টেশন ও সমিতিগুলো উদ্ধার করে সেগুলো আবার গরিব ও মেহনতি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কোনো চাঁদাবাজ, দখলদার বা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না-এমন কঠোর বার্তাও দেন তারা।

সভায় উপস্থিত সাধারণ ভোটাররা বলেন, তারা আর ভয় নয়-এবার ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে চান। জুলুম ও দুর্নীতির রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে রায় দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে জনসভা চলাকালে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তারা নুর আহমেদ আনোয়ারীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয় নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, কক্সবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী, জামায়াতের সাবেক জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট একেএম শাহ জালাল চৌধুরী,

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি শাহপুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোছাইন ছিদ্দিকী, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিউল আলম খোন্দকার, এনসিপি নেতা মোহাম্মদ হোসাইন, জিনিয়া সোলতানা রিয়া, এবি পার্টির উখিয়া উপজেলা সভাপতি সৈয়দ হোসাইন চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মৌলানা নুরুল হক, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান, উখিয়া উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা সাজ্জাদ হোসেন মুন্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা মুর্তজা হোসেন শাফী, জুলাই যোদ্ধা শেখ সাঈদী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উখিয়া উপজেলা সভাপতি রিদুয়ানুল হক জিসান, উপজেলা শিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারী আল মুবিন ছোটন, এনসিপি উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তার হোসেন। জনসভায় মানুষের স্রোত রেকর্ড ভঙ্গ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। শ্লোগানে শ্লোগানে উখিয়া উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ মিছিল সহকারে উপস্থিত হয়ে জনসভাস্থল মূখরিত করে তুলেন৷

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: banglamagazinenews.com

Leave a Reply

Back to top button