Bd বাংলাদেশ

পালানোর আগে আড়াই কোটি টাকার খাবার বাকীতে খেয়েছেন হাসিনা, দায় নিতে রাজি না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে খাবার সরবরাহ বাবদ প্রায় আড়াই কোটি টাকার বকেয়া পাচ্ছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এই বকেয়ার দায় নিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এ বকেয়া আদায় নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তিও ছিল। সেই চুক্তির আওতায় খাবার সরবরাহ করা হলেও বিল আংশিক পরিশোধ হতো, কিছু বকেয়া থেকে যেত। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে ওই বকেয়া বিল আর পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। বকেয়া আদায়ে কয়েক দফা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠি দিলেও গত দেড় বছরে কোনো অর্থ পায়নি হোটেল অবকাশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পর্যটন করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া আদায়ের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার বিগত সরকারের বকেয়া পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনেও চাহিদা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। এ খাতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার বকেয়া রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, "বিষয়টি নিয়ে পর্যটন করপোরেশন বা হোটেল অবকাশের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। আমরা সবসময় এ ধরনের বিল পরিশোধ করি। হয়ত কিছু রানিং (চলমান) বিল বাকি আছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।" পর্যটন করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে খাবার সরবরাহ বাবদ মোট অপরিশোধিত পাওনা প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিল ছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনায় প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার খাবার ও সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এসব বিল দাখিল করা হলেও অর্থ পরিশোধ হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বকেয়া আদায় না হওয়ায় তহবিল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। তারল্য সংকটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও বকেয়া রয়েছে, ফলে তারা মালামাল দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বকেয়া আছে, এটি সত্য। তবে বকেয়া আদায় হোটেল অবকাশের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব। কিছু বিল প্রক্রিয়াধীন আছে। বকেয়া আদায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।

বকেয়া থাকার পরও ২০২৫ সালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছে বাপক। চুক্তি অনুযায়ী আগস্ট থেকে এক বছরের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনায় আপ্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, হোটেল অবকাশ ৪৬০ ধরনের খাবার ও সামগ্রী সরবরাহ করে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাইকেক, বেকারি বিস্কুট, কমলা, মান্দারিন কমলা, জামরুল, লটকন, আমড়া, কাঁচা ছানা, চমচম, রসমালাই, দই, লাড্ডু, রসগোল্লা, বাকলাভা, বিভিন্ন মসলা, ঘি ও ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

এক কর্মকর্তা জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহ করে আসছে হোটেল অবকাশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রান্না ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার দায়িত্বও তাদের ছিল। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে শুধু খাবার সরবরাহ করা হয়। তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় রাজনৈতিক সভা ও সমাবেশ বেশি হওয়ায় প্রতিদিন অনেক লোকের খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো, তাই বকেয়ার পরিমাণও বেশি।

হোটেল অবকাশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরই চুক্তি নবায়ন হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় ১৭৩ ধরনের খাবার সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার জন্য ৪৬০টি আইটেম নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সরবরাহে নিজেদের তহবিলের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তিন মাস পরপর বিল জমা দেওয়া হয়, এরপর ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করা হয়।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedeltalens.com

Leave a Reply

Back to top button