Bd বাংলাদেশ

বদির ইশারায় আওয়ামী লীগ নেত্রী কোহিনুর ধানের শীষের ভোটের মাঠে!

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপির প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন বিতর্কিত এমপি বদির বামহাত খ্যাত টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি কোহিনুর আকতার। বিষয়টিকে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও জুলাই অভ্যুত্থানকে কলংকিত করা হচ্ছে বলে দাবী ছাত্র-জনতার। এসব চিহ্নিত দোসরদের মাঠে প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে এনসিপি।

আজ সোমবার বিকেলে পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী কোহিনুরের বাড়ির উঠানে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থনে উঠান বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকের আয়োজন করেন কোহিনুর। ওই বৈঠকে অথিতি ছিলেন টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক, বিএনপি নেতা শাহ আলমসহ বেশ ক’জন নেতা। বৈঠকে কোহিনুর উপিস্থিত নারীদের বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

এই বৈঠকের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই এই নারী নেত্রীকে রাজনৈতিক চরিত্রহীন বলে তুলোধোনা করছেন।

এদিকে কোহিনুরের রাজনৈতিতে প্রবেশ করেন বদির হাত ধরে। এরপরে বদির আশিবার্দে পৌর কাউন্সিলর, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী, প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। যার ফলে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন চলছে, বদির নির্দেশেই কোহিনুর ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা রুবাইয়েদ বলে, টেকনাফে ফ্যাসিজমের চিহ্নিত নারী নেত্রী কোহিনুর বিএনপির প্রিয়জনদের প্রয়োজনে পরিনত হয়েছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে সুযোগসন্ধানী এই নারীর জালিম রূপ দেখেছি। টেকনাফের বিএনপির কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, বিএনপির অনেক ত্যাগী কর্মী আছে তাদের নিয়ে রাজনীতি করুন। তারপরও স্বৈরাচারের দোসরদের পূর্নবাসন করবেন না। এভাবে চলতে থাকলে এসব রাজনৈতিক বেশ্যাদের হাসিনার মতো কঠোরভাবে দমন করা হবে।

টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ‘বার্তা বাজার’কে বলেন, তিনি মহিলা আওয়ামীলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শুনেই তাকে আমরা বৈঠকে ডেকেছি।

এই বক্তব্যের বিরোধীতা করে জেলা মহিলা লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র পদত্যাগের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, কোহিনুর সাথে নিয়মিত মহিলা লীগের নেতৃবৃন্ধদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে।

এনসিপি টেকনাফ উপজালার মূখ্য সমন্বয়ক এসএম সায়েম জানান, বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়েগেছে তাই ভোটের শর্তে স্বৈরাচারের দোসর ও চিহ্নিত মাদককারবারীদের নরমালাইজড করার পথ বেছে নিয়েছে। কোহিনুর ৫ই আগষ্টের পূর্বে আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতাকে দমনের প্রতিটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলো। বিএনপির এমন কর্মকান্ড নিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী দল গুলোকে নিয়ে আমরা বৈঠকে বসবো। এই নারীসহ আওয়ামী দোসরদের মাঠে পেলেই প্রতিহত করা হবে।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের দাবী, বিএনপির যে পরিমান নেতা-কর্মী ও সমর্থক রয়েছে নির্বাচনে তাদের ভোটেই ধানের শীষ অনেক ভোটে এগিয়ে থাকবে। তারপরেও দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা অর্থের বিনিময়ে ভোটের দোহাই দিয়ে আওয়ামী দোসরদের নরমালাইজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: bartabazar.com

Leave a Reply

Back to top button