৮ কেন্দ্রের ফলাফলে শীর্ষ ৩ পদে এগিয়ে ছাত্রশিবির

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রের ৮টি কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শীর্ষ ৩ পদে অর্থ্যাৎ ভিপি-জিএস-এজিএসসহ অধিকাংশ পদে এগিয়ে রয়েছে ছাত্র শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান প্যানেল। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা ড. আনিছুর রহমান এসব কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।
৮ কেন্দ্রের মোট ফলাফলঃ
ভিপি পদে
রাকিব ৮০৪ (ছাত্রদল)
রিয়াজুল ৮১০ (শিবির)
জিএস পদে—
খাদিজাতুল কুবরা: ৪২২(ছাত্রদল)
আব্দুল আলিম: ৮২৫ (শিবির)
এজিএস পদে—
তানজিল: ৬৯০(ছাত্রদল)
মাসুদ: ৭৯০ (শিবির)
প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন এবং ফার্মেসি—এই চার বিভাগে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনায় ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম এগিয়ে আছেন। একইভাবে জিএস পদে এগিয়ে আছেন একই প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ এবং এজিএস পদে এগিয়ে আছেন মাসুদ রানা।
ভূগোল, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম (ছাত্রশিবির) যথাক্রমে ১০০, ১২৮, ১২২ ও ৭৮ ভোট পেয়ে মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৪২৮। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী রাকিব পেয়েছেন ৯১, ১১৮, ১৩২ ও ৫৩ ভোট চার বিভাগ মিলিয়ে তার মোট ভোট হয়েছে ৩৯৪। ছাত্রফ্রন্টের প্রার্থী কিশোর সাম্য পেয়েছেন ১৭ ভোট।
জিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ভূগোল, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগে যথাক্রমে ৯০, ১২৩, ১২৩ ও ৮৩ ভোট পেয়েছেন। চার বিভাগ মিলিয়ে তার মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৪১৯। ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা পেয়েছেন ৪৫, ৭৩, ৬২ ও ২৬ ভোট, মোট ২০৬। বামঘরানার প্রার্থী ইভান তাহসিভের ভোট ৩৯, ৪৬, ৫৯ ও ১৩—যোগফলে মোট ১৫৭। ছাত্রশক্তির প্রার্থী ফয়সাল মুরাদের ভোটসংখ্যা পাওয়া যায়নি।
এজিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা তিন বিভাগে ৯৮, ১০২ ও ১৩০, ৭৮ ভোট পেয়েছেন, মোট ভোট ৪০৮। ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল তিন বিভাগে ৮৫, ১২৬ ও ১০৬, ৪৫ ভোট পেয়ে মোট ৩৬২ ভোটে অবস্থান করছেন।
এর আগে, বুধবার (৬ জানুয়ারি) রাত ১২টা নাগাদ ৫ ঘন্টা পর আবারও শুরু হয় ভোট গণনা।
জানা যায়, ওএমআর (OMR) মেশিনে ভোট গণনার সময় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হওয়া গণনা কার্যক্রম কিছুক্ষণ পরই স্থগিত করা হয়। পরে প্রার্থীদের সাথে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘ বৈঠকের পর পুনরায় ভোট গণনা শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় গরমিল ধরা পড়ে। এ কারণে গণনার ফলাফল নিশ্চিত করতে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাত পর্যন্ত ভোট গণনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে সকল প্যানেল ও স্বতন্ত্র ভিপি, জিএস,এজিএসদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয় রাত বারোটা থেকে একটি বিভাগ ম্যানুয়ালি গুনে পরে মেশিনের সাহায্যে শুরু হবে ভোট গণনা।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

