Bd বাংলাদেশ

বাদ যাচ্ছেন জামায়াতের হেভিওয়েটরা, প্রাধান্য পাচ্ছেন এনসিপির তরুণরা, নেপথ্যে কী?

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

বাদ যাচ্ছেন জামায়াতের হেভিওয়েটরা, প্রাধান্য পাচ্ছেন এনসিপির তরুণরা, নেপথ্যে কী?


০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ PM
, আপডেট:
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২১ PM


ডান থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আখতার হোসেন, এটিএম আজম খাঁন ও নাহিদ ইসলাম


ডান থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আখতার হোসেন, এটিএম আজম খাঁন ও নাহিদ ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগ মুহূর্তে নতুন করে দুইটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ দলগুলোকে ছাড় দিতে নিজেদের ‘গ্রিন আসনেও’ মনোনয়ন দাখিল না করতে প্রার্থীদের নির্দেশনা দেয় জামায়াত। মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পর বিভিন্ন আসনে দলটির নবীন রাজনৈতিকদের সুযোগ দিতে বেশকিছু জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মনোনয়ন দাখিলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় চার ডজন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এনসিপি। এর মধ্যে দলটির শীর্ষ পাঁচ নেতার আসন ছাড়া বাকি সব আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে জামায়াত। তবে এসব আসনের মধ্যে ২০টির মত আসনে এনসিপির প্রার্থীদের ছেড়ে দেয়া হতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে ওই আসনগুলোতে মনোনয়ন জমা দেয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের।

জোটকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে এমন আসনগুলোর একাধিক জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তাদের মধ্যেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্ধ ডজন জামায়াত প্রার্থী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করা হয়েছে। জামায়াতের নারী জনশক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। কিন্তু এখন শেষ পর্যায়ে এসে আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মেনে নিতে পারছেন না। আসন ছাড়ের বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়া উচিত বলেও মনে করেন তারা।

প্রশ্ন উঠেছে কেন নিজেদের প্রায় ‘নিশ্চিত জেতা আসনও’ নবীন এনসিপি নেতাদের ছাড় দিচ্ছে জামায়াত? জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পৃথক দুইটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছে, জামায়াত জুলাই শক্তিতে কাছে টেনে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে চাইছে। এক্ষেত্রে ইসলামী দল হয়েও জামায়াত যে আগের চেয়েও বেশি ‘মোডারেট’ সেই বার্তা দেয়ার একটি বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ভোটারদের ইসলামি দলগুলোর জোটে আনতেও এই সমঝোতা বড় ভূমিকা রাখবে। 

কত আসনে ছাড় দিচ্ছে জামায়াত? 
শুরুতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল আসন সমঝোতার আলোচনায় ছিল। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিকে এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জোটে যোগ দেয়। একই সময়ে আমার বাংলাদেশ পার্টিও (এবি পার্টি) যুক্ত হলে দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১টিতে।

জামায়াত ও অন্যান্য দল সূত্রে জানা গেছে, জোটে জামায়াতে ইসলামী ১৮০ থেকে ১৮৫টি আসন রাখতে চাইছে। অন্যগুলো জোটের শরিকদের দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ২০-২২টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টিকে তিনটি করে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) দুই করে আসনে ছাড় দিতে চায় জামায়াত। তবে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে কয়টি আসনে সমঝোতা হচ্ছে, তা এখনো জানা যায়নি।

তবে এনসিপির প্রত্যাশা ৪০টি আসন। জানা গেছে, ৩০টি আসনে ছাড়ের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত, বাকি ১০টি আসন নিয়ে এখনও জোটের সঙ্গে দেন দরবার চালাচ্ছে দলটির শীর্ষ নেতারা। সেক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানের উপর নির্ভর করছে বিষয়টা। ইসালামী আন্দোলন জোটে ছেড়ে বেড়িয়ে গেলে ৪০ টি আসনে নির্বাচন করবে এনসিপি।

এদিকে এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন। দলটি শতাধিক আসনে নির্বাচন চায়। তবে জোট থেকে তাদের ৪০টির মতো আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব মানতে রাজি না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দলের নেতারা। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৩টিতে ভালো অবস্থায় আছেন বলে দাবি তাদের।

জানা যাচ্ছে,  জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন নিয়ে সৃষ্ট সংকটের বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, তারা একসঙ্গে জোটে থাকতে চান। কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভালো ফলাফল আসবে বলে জোটের নেতারা মনে করছেন। যদিও কারা কয়টি আসন পাবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। 

এনসি
রাজনৈতিক বনিবনার জেরে সম্প্রতি এনসিপির বেশ কয়েকজন পদত্যাগ করেন

সেসব আসনে এনসিপিকে ছাড় দিচ্ছে জামায়াতের প্রার্থীরা
শেষ মূহুর্তে জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়ায় এখন কোন আসনগুলোতে ছাড় পাচ্ছে এনসিপি সেসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে দলটির শীর্ষ ৫ নেতাসহ ৮ আসন ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ব্যাপারে এখনও আলোচনা চলমান রয়েছে। জোট সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি আসনে জামায়াত কোন প্রার্থী দেয়নি। এগুলোর হলো ঢাকা-১১, যেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থী হবেন। ঢাকা-৮ আসন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন।

অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আতিক মুজাহিদ, নোয়াখালী-৬ হান্নান মাসউদ, ঢাকা-৭ থেকে  তারেক মোহাম্মদ আদেল, ঢাকা-১৮ থেকে আরিফুল ইসলাম, ঢাকা-১৯ থেকে দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ থেকে নাবিলা তাসনিদ, নরসিংদী-২ থেকে সারোয়ার তুষার,  চট্টগ্রাম-৮ থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ, সিলেট-৩ থেকে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, গাজীপুর-২ থেকে আলী নাছের খান, লক্ষ্মীপুর-১ থেকে মাহবুব আলম মাহির, নোয়াখালী-২ থেকে সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া, মৌলভীবাজার-৪ থেকে প্রীতম দাশ, টাঙ্গাইল-৩ থেকে সাইফুল্লাহ হায়দার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে আশরাফ মাহদী, শেরপুর-১ থেকে লিখন মিয়া, চুয়াডাঙ্গা-১ থেকে মোল্লা ফারুক এহসান, নাটোর-৩ থেকে জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে সাইফ মোস্তাফিজ, দিনাজপুর-৫ থেকে আব্দুল আহাদ, গোপালগঞ্জ-৩ থেকে আরিফুল দাড়িয়া এবং বান্দরবান থেকে সুজা উদ্দিন এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

এনসিপির মিডিয়া কমিটির সদস্য মাহাবুব আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আলোচনা চলছে, তবে কে কোথায় নির্বাচন করবে সেটি এখনও নিশ্চিত হয়নি। পার্টির যেসব আসনে শক্তি আছে সেসব আসনেই নির্বাচন করবে। আলাপ আলোচনা শেষ হলেই জানা যাবে কে কোন আসনে নির্বাচন করবে। 

এনসিপির আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী যারা
এনসিপিকে ছাড় দেয়া বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। এগুলোর মধ্যে ঢাকা-১১ (রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা-হাতিরঝিল আংশিক) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আতিকুর রহমান। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল। বিগত কয়েক মাস তিনি দলীয় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দলের নির্দেশনার আলোকে মনোনয়ন জমা দেননি তিনি। 

এছাড়া রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে এনসিপি সদস্য সচিব ও প্রার্থী আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং দলটির রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খান। আখতারকে সমর্থন জানিয়ে সড়ে দাঁড়ানোর পর আজম খান বলেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি… আলহামদুলিল্লাহ। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটসঙ্গী এনসিপির আখতার হোসেনের প্রতি আমার এবং আমাদের দলের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা-৮ (মতিঝিল-শাহবাগ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সমর্থন জানিয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। তিনিও দীর্ঘদিন জামায়াতের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল জব্বারও মনোনয়ন জমা দেননি। নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সভাপতি ছাড় দিয়েছেন এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিনকে।

কী ভিত্তিতে সমাঝোতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ বিদেশে নিজেদের জনসমর্থন ও ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতেই এমন সিদ্ধান্ত জামায়াতের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আসলে জুলাইয়ের যে স্পিরিটটা আছে, সব দল ও মানুষ এতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও অনেক দল বা জোট মনে করছে যে জুলাইয়ের স্পিরিটটা ধারন করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন যেহেতু এনসিপি নেতারা জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন, ফলে স্পিরিটটাকে ঘরে তোলা ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্টর। আমি মনে করি, এনসিপি অনেক জায়গাতে জিততে না পারলেও ভোটের মাঠে তাদের একটা স্পেস আছে।

জোটকে টিকিয়ে রাখতে জামায়াত আগ্রহী মন্তব্য করে এই অধ্যাপক বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেকগুলো সিট ছেড়ে দেয়ার পেছনে বড় চিন্তা রয়েছে। দেশ বিদেশে সর্বজনীন সমর্থন পেতেই জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিচ্ছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতকে নিয়ে নানা সময়ে অনেক কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই সমোঝতার মাধ্যমে সেগুলো হয়তো কমবে। এনসিপির মত মানে নতুনদের কোন সংগঠন যারা বাংলাদেশ স্পিরিটের সাথে খুব কানেক্টেড, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি তাই তাদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করলে জামায়াত বিশেষ সুবিধা পেতে পারে।

এনসিপি, এলডিপি কিংবা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের এই জোট কতটা কার্যকর হবে, সেটা দেখার জন্য অবশ্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ:

রাজনীতি


কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী আহত

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬


জকসুর ভোট গণনা বন্ধ

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬


বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা চাইলেন তারেক রহমান

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬


সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শাবিপ্রবিতে গবেষণা কর্মশালা…

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬


জকসুর ভোট গণনা শুরু

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬


সম্পূরক অভিযোগপত্রে ঢাবির আরও ৭ ছাত্র আসামি

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Back to top button