Bd বাংলাদেশ

কল্যাণ রাষ্ট্রসহ ১০ বিষয়ে গুরুত্ব জামায়াতের

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার তৈরির কাজ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ইশতেহার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারে গেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে তার রূপরেখাসহ নানান প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে। থাকবে ভোটারদের মন জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত। এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে দলটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন, পাচার হওয়া টাকা ফেরত, শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়ন, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়াও জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই ইশতেহারে দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা। জানা যায়, ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী দল কেমন বাংলাদেশ গড়বে, সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। দেশের রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে, আর ভবিষ্যতের গতি কোন দিকে ছুটবে, তার উত্তর জানতে অপেক্ষায় মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল জামায়াতে ইসলামী। এবারের নির্বাচনে নয়া কৌশলে ইশতেহার সাজানোর পথে এগোচ্ছে দলটি। পুরোনো ছকের পাশাপাশি এবার সাধারণ ভোটারদের দেশের পরিকল্পনায় যুক্ত করতে অনলাইনে ওয়েবসাইট চালু করে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় অংশীদার হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে কল্যাণ রাষ্ট্র, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত, যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষি, স্বাস্থ্য বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, উৎপাদনশীল অর্থনীতি, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, বাকস্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের বিষয় থাকবে এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে। এ ছাড়া দলীয় ইশতেহার তৈরিতে অনলাইনে জনমত নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

ডিসেম্বর মাসে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লিখেন, আপনার একটি সুন্দর পরামর্শ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামী। আপনার মতামতের ভিত্তিতেই তৈরি হবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার। ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দলটি। সেখানে সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানতে চালু করা হয়েছে জেন-জি জিজ্ঞাসা। এই প্ল্যাটফর্মে তরুণরা সরাসরি প্রশ্ন তুলতে পারছেন রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে। জামায়াতের খসড়া ইশতেহার সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানান, শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং বেকারত্ব দূরীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইনে সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘ইশতেহারে আমাদের অঙ্গীকার থাকছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। আর সে বাংলাদেশ হবে বেকারত্বমুক্ত ও বৈষম্যহীন।’ তিনি বলেন, ‘দেশের দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগে নিজেদের আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহির আওতায় আনব। পাশাপাশি ইশতেহারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও টেকসই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষিবান্ধব নীতি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বাস্তবিক স্লোগান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কিছু চমক থাকছে ইশতেহারে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: bdtoday.net

Back to top button