দেশজুড়ে জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর বিএনপির নারকীয় তাণ্ডব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ের খবর আসার পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ নৈরাজ্য। বিজয়োল্লাসের পরিবর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ মেতে উঠেছে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে। পরাজয়ের গ্লানি ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট (জামায়াত-এনসিপি) এবং সাধারণ ভোটারদের ওপর। ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং নারীদের ওপর শারীরিক হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় রক্তাক্ত হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ।
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান:
কুয়েট ভিসি: খুলনার কুয়েট ভিসির বাসভবনে ছাত্রদলের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে। তারা ভিসিকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পরিবারকে হুমকি দেয়।
কুড়িগ্রাম: ঢাবি শিক্ষার্থী আশিকের ওপর ছাত্রদলের হামলায় ৪ জন গুরুতর আহত।
খুলনা: ঢাবির এক ছাত্রীর (সায়মা আক্তার) বাড়িতে আগুন দিয়ে তাঁর মা-বোনকে পিটিয়েছে ছাত্রদল কর্মীরা।
২. বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর:
সিরাজগঞ্জ: সলঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।
টেকনাফ: জামায়াত সমর্থক ইয়াহইয়ার খামারবাড়িতে আগুন।
পঞ্চগড়: সারজিস আলমের নির্বাচনী আসন পঞ্চগড়-১-এর ৩০টির বেশি স্থানে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা।
সৈয়দপুর: বাঙালি পুর ইউনিয়নের দেওয়ানি পাড়ায় মধ্যরাতে মিছিল নিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ি ও সম্পদ লুটপাট।
খুলনা: ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা।
সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতাদের বাড়িতে আগুন ও লুটপাট।
৩. শারীরিক হামলা ও জখম:
দিনাজপুর: জামায়াতের পোলিং এজেন্ট হওয়ার কারণে বিরামপুরে এক বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে বিএনপি কর্মীরা।
ফেনী: ‘জুলাই যোদ্ধা’ শিবির কর্মী সায়েমকে পিটিয়ে জখম করেছে ছাত্রদল কর্মীরা।
গাজীপুর: বিএনপির হামলায় জামায়াতের ১০ জন নেতাকর্মী আহত।
সুনামগঞ্জ: দিরাই পৌর শহরে জামায়াত সমর্থক সাদিকুর রহমানসহ ১০-১২টি বাড়িতে হামলা ও মারধর।
বাগেরহাট: বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত সমর্থক আল-আমিনকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বিএনপি ক্যাডাররা।
নোয়াখালী: সেনবাগে জামায়াত নেতার ওপর ছাত্রদলের আক্রমণ।
৪. নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা:
ভোলা: নড়িয়া পৌর এলাকায় এক আলেমের বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ের ওপর হামলা।
খুলনা: বিএনপিকে ভোট না দেওয়ায় এক ছাত্রীর মা ও বোনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
নীলফামারী: ভোট পরবর্তী মিছিলে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে নারী ও শিশুদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।
৫. নির্বাচনী সরঞ্জাম ও এজেন্টদের ওপর বাধা:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ধানের শীষে ভোট কম পাওয়ার অজুহাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলা।
লক্ষ্মীপুর: জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের তালিকা দিতে যাওয়া দুই কর্মীকে ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশে সোপর্দ।
কুমিল্লা: দেবিদ্বারে ভোট পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াত সমর্থকদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।
৬. অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
বাগেরহাট: বিষ্ণুপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত এবং ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর।
শেরপুর: ঝিনাইগাতীতে বিএনপির হামলায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি নিহত হওয়ার অভিযোগ।
কুড়িগ্রাম: জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা।
গোপালগঞ্জ ও সন্দ্বীপ: স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বাড়িঘরে বিএনপি ক্যাডারদের আক্রমণ ও লুটপাট।

