জামায়াতের ইশতেহারে ৫ ‘হ্যাঁ’ ৫ ‘না’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন মেনুফেস্টোতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য পাঁচটি মূল নীতিকে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে—সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে দলটি স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যার বিরুদ্ধে।
মেনুফেস্টোতে বলা হয়, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বস্তরে সততা নিশ্চিত করা হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দলটির মতে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তাই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, বিভাজন ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তারা কাজ করবে। ফ্যাসিবাদী শাসন ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মেনুফেস্টোতে বলা হয়েছে, আইনের শাসন ও মানবিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সমাজে বৈষম্য কমানো হবে। বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরির কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
দক্ষতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত জানিয়েছে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হবে। তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত মেনুফেস্টোতে ‘হ্যাঁ’ বলা হয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে; আর স্পষ্টভাবে ‘না’ জানানো হয়েছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির মতো রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী অনুশীলনে।

